Published : 29 May 2026, 05:19 PM
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন খাঁ খাঁ করছে। ঈদ-উল-আযহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা সবাই প্রিয়জনদের কাছে ফিরে গেছেন। হলগুলোও বন্ধ (২৩ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত)। তবে এই শূন্য ক্যাম্পাসে কিছু মানুষ রয়ে গেছেন, যাদের ফেরা হয়নি। দেশ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ববোধ তাদের আটকে রেখেছে। তাঁরা হলেন ক্যাম্পাসের আনসার সদস্যরা। কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জোন মিলিয়ে মোট ৯৪ জন আনসার সদস্য দিবারাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। প্রধান ফটক থেকে শুরু করে হলগুলোর পকেট গেট পর্যন্ত তাঁদের সতর্ক দৃষ্টি – যেন সবার ‘বাড়ি ফেরা’র স্বপ্নে তাঁদের কোনো স্থান নেই। ঈদের ছুটিতে পরিবার ও আরাম আয়েশ ত্যাগ করে এই মানুষগুলো দাঁড়িয়ে আছেন, ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই পালন করছেন দায়িত্ব। প্রশ্ন জাগে, তাঁদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কবে পূরণ হবে? আনসার সদস্য আনিসুর বলেন, “দায়িত্ব তো ছেড়ে যাওয়া যায় না। বাচ্চাদের খুব মিস করি। ঈদে বাড়িতে থাকলে একসাথে নামাজ পড়তে যেতে পারতাম।
” কথাগুলো সরল, কিন্তু ভেতরের কষ্ট স্পষ্ট। সন্তানের হাত ধরে ঈদের মাঠে যেতে না পারার বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আরেক আনসার সদস্য ফরিদুল বলেন, “এটা আমাদের কর্তব্য। কষ্ট হলেও মেনে নিতে হয়। রোজা ঈদেও আমরা এখানে ছিলাম, কোরবানির ঈদেও থাকতে হচ্ছে। তবে দেশ ও মানুষের স্বার্থে কাজ করতে পেরে ভালো লাগে।” পরপর দুটি ঈদ পরিবার থেকে দূরে – এই বাস্তবতা তিনি সেবার মানসিকতা দিয়ে মেনে নিয়েছেন। আরেক সদস্য জানান, “গত ঈদও পরিবারের সাথে কাটানো হয়নি, এবারও যাওয়া হচ্ছে না। আমরা যারা এখানে আছি, একে অপরের সাথেই যেন এক পরিবার হয়ে ঈদ পালন করি।” সহকর্মীরাই তাঁদের ঈদের সঙ্গী – এই ছোট্ট কথায় একাকীত্বের মাঝেও উষ্ণতা খুঁজে পাওয়া যায়। নাগরিক সংবাদে আপনারা জীবনকথা, বিভিন্ন আয়োজন, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারেন। ই-মেইল:[email protected] তবে এই নিষ্ঠার বিপরীতে রয়েছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কাহিনি।
দিনরাত ক্যাম্পাসে পাহারা দেওয়া এই মানুষগুলোর থাকার পরিবেশ এখনো মানবিক নয়। একাধিক আনসার সদস্য জানান, পকেট গেটের নিরাপত্তাকক্ষগুলোতে বিদ্যুৎ নেই, নেই ফ্যান, আলো। দিনের গরমে ডিউটি শেষে ক্যাম্পে ফিরেও তাঁরা বিশ্রাম নিতে পারেন না। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে রাত কাটাতে হয়। বৃষ্টিতে নিরাপত্তাকক্ষ ও ক্যাম্পে পানি ঢুকে পড়ে। কুষ্টিয়া জোনের ক্যাম্পে আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই, মসজিদে গিয়ে তাঁদের কাজ সারাতে হয়। তাঁরা আরও জানান, এর আগেও তাঁরা এসব সমস্যার কথা জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি। প্রধান ফটকের নিরাপত্তাকক্ষের ফ্যানগুলোও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘ ডিউটি শেষে সামান্য স্বস্তিটুকুও তাঁদের জোটে না। ঈদের ছুটিতে শূন্য ক্যাম্পাসে এই মানুষগুলো দাঁড়িয়ে আছেন পরিবার ছেড়ে, আরাম ছেড়ে। সংস্থানটুকু না পেয়েও তাঁরা নিরলসভাবে পালন করছেন দায়িত্ব। প্রশ্ন একটাই – তাঁদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কবে পূরণ হবে?।